আমার ঘুম পাচ্ছে, আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করেনা। নেশার অভিযোগে পুলিশের সাথে কথা বলে এসেছি, এসে দেখেছি বিশ্বযুদ্ধের জন্য সবচেয়ে সভ্যরা বর্বর নোংরা ভাষণ দিচ্ছে, কামানেরা প্রস্তুত, আকাশে জেট প্লেনেরা পাখিদের তাড়িয়ে দিয়েছে! ক্যামেরায় শান দিচ্ছে হবু পুলিত্জার! আমি সত্যি কোন নেশা করিনি তবু দেখেছি যা আমার লাগে আমি ভিম মাতাল। এতো উচ্চশিক্ষা, এতো উন্নয়ন-সফলতা কোথায় যাচ্ছে! শুধু অস্ত্র বাড়ছে! গালাগালি হচ্ছে! মেশিন আরো জোরে শব্দ করছে! শোনা যাচ্ছেনা আর কোন কান্না। শ্রমিকের ঘামের মদ পান করে নিচ্ছে পাড়ার সক্রেটিস। মা পৃথিবী পুড়ছে! আমি চেয়েছিলাম বারিষার শাড়ি শুকাতে দিয়ে ছাদে কাটিয়ে দিবো আস্ত দুপুর। তাকে বিকেলের বাতাসে একটা ঘাসের বনে বসে দেখাতাম সাগরের মতো কেন লাগে সবুজের ঢেউ! যুদ্ধের প্রস্তুতি চলে, আমি ভয় পাচ্ছি। আমার বুকে কোয়ালারা পুড়ছে, গাছেরা কাঁদছে! এই পৃথিবীর সমস্ত চিতকার আমাকে নেশাগ্রস্থ করে দিচ্ছে! আমি সুস্থ ভাবে ভাবতে পারছিনা কিছুই! আমি জানি যারা এখন সুস্থ বলে দাবী করছে তারা বোধ হারিয়ে ফেলেছে! নয়তো তারা সাইকো! হয়তো ক্রিমিনাল! এতো মানুষ হবার তাড়া কেন? মানুষের মতো মানুষ হয়ে কি লাভ? মানবিকতা? পারমানবিকতা? মানুষের মতো আর মানুষ চাই না, একটা পশুর মতোন মানুষ চাই। সমস্ত মুর্খ পশু ইকোসিস্টেম বুঝে, তাদের বই পড়তে হয়নি, তাদের ডিগ্রি নিতে হয়নি! কোন পশু পৃথিবী ধ্বংস করেনা, আরো চাই আরো চাই করেনা, মানুষেরা সব ধ্বংস করে, সব চায়। মানুষ তুমি পশু হউ। মানুষ তোমার পোশাক ফেলে তুমি অরণ্যে চলে যাও।
লেখক পরিচিতি
সাইমুম সাঈদসাইমুম সাঈদ একজন ভিজ্যুয়াল শিল্পী, কবি এবং উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর প্রকাশিত কবিতার বই দুটি এবং তিনি বেশ কয়েকটি একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছেন। তাঁর শিল্পকর্মে মানবিক অনুভূতি, স্মৃতি, প্রকৃতি, সহাবস্থান, আপনত্ববোধ, পরিচয়, স্থান এবং প্রাত্যহিক জীবনের নানা অনুষঙ্গ অনুসন্ধান করা হয়। তাঁর সৃজনশীল কাজ প্রায়ই কবিতা ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার মধ্যবর্তী পরিসরে বিচরণ করে।
